Sunday, January 26, 2020

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাংগঠনিক কাঠামো

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাংগঠনিক কাঠামো

মন্ত্রণালয়ের নামঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিভাগঃ আইন ও বিচার বিভাগ। বিচার শাখা-৬
কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানঃ নিবন্ধন পরিদপ্তর।
জেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানঃ জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়।
সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপঃ
     পদবী          সংখ্যা
  সাব-রেজিস্ট্রার      ১ (এক) জন
  অফিস সহকারী      ১ (এক) জন
     মোহরার      ২ (দুই) জন
  টি,সি, মোহরার      ১ (এক) জন
এম,এল,এস,এস,      ১ (এক) জন
  নকল নবিশ  প্রয়োজনীয় সংখ্যক

নামজারী (Mutation) যে কারণে করবেন

নামজারী (Mutation) যে কারণে করবেন

নামজারী (Mutation) এর সংজ্ঞা
কোন ব্যক্তি কোন জমির মালিকানা লাভ করার পর তার নাম সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত করা বা তার নিজ নামে নতুন খতিয়ান খোলার যে কার্যক্রম তাকে নামজারী বা মিউটেশন (Mutation) বলে । সাধারণত দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জরিপের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। ফলে দুই জরিপের মধ্যবর্তী সময়ে উত্তরাধিকারের মাধ্যমে জমি প্রাপ্তির ফলে কিংবা দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের ফলে ভূমি মালিকানার পরিবর্তনে খতিয়ান হালনাগাদকরন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পরে। এক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারী বা মিউটেশনের মাধ্যমে খতিয়ান হালকরনের কাজ করে থাকে।
আপনি যে কারণে নামজারী করবেন
১।  যে কোনো সময় জমি বিক্রয় করা যাবে (রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ৫২এ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ৫৩সি ধারা অনুসারে, দলিলমুলে প্রাপ্ত জমির নামজারী খতিয়ান না থাকলে সে জমি বিক্রয় করা যায় না)।
২। ভূমির মালিকানা হালনাগাদ হবে।
৩। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়/প্রদান করা সহজ হবে।
৪। খতিয়ান হালনাগাদ থাকার ফলে জরিপ কাজে সুবিধা হবে।
৫। সরকারের খাস জমি সংরক্ষণে সুবিধা হবে।
৬। নদী পয়স্তিজনিত কারনে রেকর্ড সংশোধন হবে।
৭। মূল ভূমি মালিকের মৃত্যুতে উত্তরাধিকারগণের মালিকানার নির্দিষ্ট অংশ সম্বলিত খতিয়ান প্রস্তুত হবে।
৮। রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে জমি হস্তান্তরের কারণে ক্রেতা বা গ্রহিতার নামে খতিয়ান প্রস্তুত হবে।
সর্বোপরি যে কোন বিতর্কের সময় মালিকানা বা দখল প্রমাণের ক্ষেত্রে নামজারি সংক্রান্ত কাগজাপত্রাদি গুরুত্বপূর্ন কাগজ হিসাবে বিবেচিত হবে।
নামজারী (Mutation) এর ধাপ সমুহ
১। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন দাখিল। (ভূমি অফিসের নির্ধারিত ফরমে অথবা www.minland.gov.bd এই ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ফরম ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়)।
২। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক সরেজমিন তদন্তের জন্য আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রেরণ।
৩। ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃক প্রস্তাব/প্রতিবেদন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে প্রেরণ।
৪। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে শুনানীর জন্য নোটিশ প্রদান।
৫। নোটিশ প্রাপ্তির পর যাবতীয় মুল কাগজ-পত্র সহ আবেদনকারী কর্তৃক শুনানীতে অংশ গ্রহন।
৬। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক আদেশ প্রদান।

বিভিন্ন ধরনের নামজারী ও এর সময়সীমা

নামজারী তিন ধরনের হয়ে থাকে
১। শুধু নামজারী বা নামপত্তনঃ
কোন রেকর্ডিয় মালিকের নামের পরিবর্তে ঐ একই খতিয়ানে পরবর্তী গ্রহীতা ও ওয়ারিশগণের নামভূক্ত হলে, তা শুধু নামজারী বা নামপত্তন হিসেবে পরিচিত। রাস্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা মতে এ ধরনের নামজারী বা নামপত্তন হয়ে থাকে।
২। নাম পত্তন ও জমা খারিজঃ
কোন দাগের জমি বিক্রয় বা অন্য কোন প্রকার হস্তান্তরের মাধ্যমে বিভক্ত হলে এবং ঐ বিভক্তির জন্য পৃথক হিসাব বা হোল্ডিং খুলে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের আদেশ দিলে তা নামপত্তন ও জমা খারিজ নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে জমির মালিকানার পরিবর্তন হবে এবং পৃথক খতিয়ান এবং হোল্ডিং নম্বর পড়বে। রাস্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ও ১১৭ ধারা মতে নামপত্তন ও জমা খারিজ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়ে থাকে।
৩। নাম পত্তন ও জমাখারিজ একত্রিকরণঃ
কোন ব্যক্তির একই মৌজার ভিন্ন ভিন্ন খতিয়ানে জমি থাকলে, উক্ত খতিয়ানগুলোর মাধ্যমে প্রাপ্ত জমি একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন খতিয়ান প্রস্তুত করলে, তাকে নামপত্তন ও জমা একত্রীকরণ করা বলা হয়। রাস্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ও ১১৬ ধারা অনুসারে এ প্রক্রিয়া সম্পদিত হয়।
সময়সীমা
১। মহানগরের ক্ষেত্রে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) কর্মদিবস।
২। অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০ (তিরিশ) কর্মদিবস।
নামজারী নিষয়ক পরামর্শ ও আইনী প্রতিকার
পরামর্শ
১। ক্রয়মূলে বা অন্য কোন দলিলের মাধ্যমে জমি প্রাপ্তির পর মূল দলিল পেতে দেরি হলে উক্ত দলিলের নকল (সার্টিফাইড কপি) সংগ্রহ করে দ্রুত নামজারী করুন।
২। মূল মালিকের মৃত্যুর পর সকল ওয়ারিশ একত্রে বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি করুন এবং প্রত্যেকে পৃথকভাবে নামজারী করুন।
৩। নামজারী খতিয়ান এবং ডিসিআর প্রাপ্তির সাথে সাথে আপনার নামে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হিসাব খোলা নিশ্চিত করুন এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে দাখিলা নিন।
৪। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও যে কোন অভিযোগের ক্ষেত্রে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগ করুন।
৫। ভূমি অফিসের নির্ধারিত ফরমে অথবা www.minland.gov.bd এই ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ফরম ডাউনলোড করে নামজারীর আবেদন করুন।
আইনী প্রতিকার
দলিল-দস্তাবেজে কোন ত্রুটির কারণে বা অন্য যে কোনো কারণেই নামজারির আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে। আবেদন নামঞ্জুর হলে প্রতিকারের সুযোগও রয়েছে। নামজারীতে আপনার অধিকার ক্ষুন্ন হলে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে তার যথাযথ প্রতিকার না পেলে আপীল, রিভিশন বা রিভিউ এর মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারেনঃ
১। নামজারীর বিষয়ে কোন ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক আদেশ প্রদানের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট আপীল করতে হবে, জেলা প্রশাসক কর্তৃক আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপীল করতে হবে এবং বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে ভূমি আপীল বোর্ডে আপীল করতে হবে।
২। এ ছাড়া রিভিশনের পথও খোলা রয়েছে। অসন্তুষ্ট ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা তাঁর নিজের ইচ্ছায় নথি তলব করে সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন।
৩। যদি আপীল বা রিভিশন না করা হয়, তবে রিভিউ এর পথ খোলা থাকবে। রিভিউ মানে হচ্ছে পুনর্বিবেচনা করা। যে কর্মকর্তা আদেশ দিয়েছেন, তাঁর বরাবরে রিভিউ এর জন্য আবেদন করতে হবে। আদেশ প্রদানের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ এর জন্য আবেদন করতে হয়।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (TP Act) ১৮৮২

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (TP Act) ১৮৮২
25. An interest created on a transfer of property and dependent upon a condition fails if the fulfilment of the condition is impossible, or is forbidden by law, or is of such a nature that, if permitted, it would defeat the provisions of any law, or is fraudulent, or involves or implies injury to the person or property of another, or the Court regards it as immoral or opposed a public policy.
Illustrations
(a) A lets a farm to B on condition that he shall walk a hundred miles in an hour. The lease is void.
(b) A gives Tk. 500 to B on condition that he shall marry A’s daughter C. At the date of the transfer C was dead. The transfer is void.
(c) A transfers Tk. 500 to B on condition that she shall murder C. The transfer is void.
(d) A transfers Tk. 500 to his niece C if she will desert her husband. The transfer is void.
48. Where a person purports to create by transfer at different times rights in or over the same immoveable property, and such rights cannot all exist or be exercised to their full extent together, each later created right shall, in the absence of a special contract or reservation binding the earlier transferees, be subject to the rights previously created.
৫৩বি। বায়নাপত্র বা বিক্রয়চুক্তি (contract for sale) বলবৎ থাকাকালে, বায়নাপত্রের অধীন কোন স্থাবর সম্পত্তি, উক্ত চুক্তি আইনানুগভাবে বাতিল না করে, বায়নাপত্র গ্রহীতা ব্যতীত, অন্য কোন পক্ষের নিকট হস্তান্তর করা যাবে না, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তর করা হলে তা অবৈধ হবে। (No immovable property under a contract for sale shall be transferred except to the vendee so long the contract subsists, unless the contract is lawfully rescinded, and any transfer made otherwise shall be void.)
৫৩সি। কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার ব্যতীত অন্যভাবে সম্পত্তির মালিক হইয়া থাকিলে, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর অধীন তাহার নিজ নামে সর্বশেষ খতিয়ান না থাকিলে, অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিক হইয়া থাকিলে, তাহার নিজ নামে বা পূর্ববর্তী নামে সর্বশেষ খতিয়ান প্রস্তুত করা না থাকিলে, কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করিতে পারিবে না, যদি অন্য কোন ভাবে বিক্রয় হয়, তবে তা অবৈধ হবে। (No immovable properly shall be sold by a person unless his name, if he is the owner of the property otherwise than by inheritance, or his name or the name of his predecessor, if he is the owner of the property by inheritance,  appears in respect of the property in the latest khatian prepared under the State Acquisition and Tenancy Act, 1950, and any sale made otherwise shall be void.)
৫৩ডি। বন্ধক-গ্রহীতার লিখিত সম্মতি ব্যতীত কোন নিবন্ধিত বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি পুনঃবন্ধক বা বিক্রয় করা যাইবে না, এতৎসত্ত্বেও কোন পুনঃবন্ধক বা বিক্রয় করা হইলে তা অবৈধ হইবে। (No immovable property under registered mortgage shall be re-mortgaged or sold without the written consent of the mortgagee, and any re-mortgage or sale made otherwise shall be void.)
৫৪এ। এই আইনে অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, হস্তান্তর গ্রহীতা সম্পত্তিতে বা উহার কোন অংশে দখল গ্রহন করুক বা না করুক, কোন স্থাবর সম্পত্তির বায়নাপত্র বা বিক্রয় চুক্তি কেবল লিখিত এবং রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮, এর অধীন দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রিকৃত হইতে হইবে।
কোন স্থাবর সম্পত্তির বায়নাপত্রে, বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে, একটি সময় উল্লেখ করিতে হইবে, যা বায়নাপত্র রেজিস্ট্রেশন এর তারিখ থেকে কার্যকর, তবে যদি কোন সময়সীমা উল্লেখ করা না হয়,তাহলে সময়সীমা ৬ (ছয়) মাস বলিয়া গন্য হইবে। (Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, a contract for sale of any immovable property can be made only by an instrument in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof.
In a contract for sale any immovable property, a time, to be effective from the date of registration, shall be mentioned for execution and registration of the instrument of sale, and if no time is mentioned, six months shall be deemed to be the time.)

নামজারীর ফিস ও আবেদনপত্রের সাথে কাগজপত্র

নামজারীর ফিস ও আবেদনপত্রের সাথে কাগজপত্র

আবেদনের সাথে কোর্ট ফি ২০/- (বিশ) টাকা
নোটিশ জারী ফি ৫০/- (পঞ্চাশ) টাকা
রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি ১০০০/-(এক হাজার) টাকা।
প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০/-(একশত) টাকা
নামজারীর জন্য নিম্নলিখিত হারে ফিস প্রদান করিতে হইবেঃ
বিঃদ্রঃ আবেদন পত্রের কোর্টফি ছাড়া বাকিগুলো ডিসিআর এর মাধ্যমে আদায় করা হবে।
নামজারীর আবেদনে নিম্নলিখিত কাগজপত্র লাগবে-
১। ২০ (বিশ) টাকার কোর্টফি সহ মূল আবেদন ফরম।
২। আবেদনকারীর ১ (এক) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জন্য ছবি প্রযোজ্য)।
৩। আবেদনকারীর পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি (জাতীয় পরিচয়পত্র/ভোটার আইডি/জন্ম নিবন্ধন সনদ/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/ অন্যান্য)
৪। খতিয়ানের ফটোকপি/সার্টিফাইড কপি।
৫। বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ ।
৬। সর্বশেষ জরিপের পর থেকে বায়া দলিলের সার্টিফাইড কপি বা ফটোকপি।
৭। উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা লাভ করলে অনধিক তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত মূল উত্তরাধিকার সনদ।
৮। ডিক্রির মাধ্যমে জমির মালিকানা লাভ করলে উক্ত ডিক্রীর সার্টিফাইড কপি বা ফটোকপি।
বিঃদ্রঃ ১। শুনানী গ্রহণকালে দাখিলকৃত কাগজের মূল কপি অবশ্যই আনতে হবে।
২। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দখল/প্রয়োজনীয় মালিকানার রেকর্ডপত্র দেখাতে হবে।

তল্লাশি (Searching) ও দলিলের নকল (Certified Copy) প্রাপ্তির নিয়মাবলী

তল্লাশি (Searching) ও দলিলের নকল (Certified Copy) প্রাপ্তির নিয়মাবলী

রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৫৭(১) ধারা মোতাবেক, প্রয়োজনীয় ফিস পূর্বে পরিশোধ সাপেক্ষে, যে কোন ব্যক্তি ১ নং (স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলের)  ও ২ নং (রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকার করা দলিলের) রেজিস্ট্রার বহি ও ১ নং রেজিস্ট্রার বহি সম্পর্কিত সূচি বহি পরিদর্শন করতে পারে এবং উক্ত আইনের ৬২ ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে উক্ত বহিসমুহে লিপিবদ্ধ বিষয়ের নকল গ্রহন করতে পারে।
একই আইনের ৫৭(২) ধারা মোতাবেক , প্রয়োজনীয় ফিস পূর্বে পরিশোধ সাপেক্ষে, দলিল সম্পাদনকারী বা তার এজেন্ট এবং সম্পাদনকারীর মৃত্যুর পর (পূর্বে নয়) যে কোন আবেদনকারী ৩ নং বহি (নিবন্ধিত উইলের রেজিস্টার বহি) তে লিপিবদ্ধ বিষয়ের এবং ৩ নং বহি সম্পর্কিত সূচিপত্রের নকল গ্রহন করতে পারে।
একই আইনের ৫৭(৩) ধারা মতে, প্রয়োজনীয় ফিস পূর্বে পরিশোধ সাপেক্ষে, দলিলের সম্পাদনকারী বা দাবীদার ব্যক্তি বা তার এজেন্ট অথবা প্রতিনিধি ৪ নং বহিতে লিপিবদ্ধ বিষয়ের নকল গ্রহন করতে পারে।
একই আইনের ৫৭(৪) ধারা মতে, ৩ নং ও ৪ নং বহিতে লিখিত বিষয়ের তল্লাশি, সাব-রেজিস্ট্রার এর মাধ্যমে করা যাবে।
তল্লাশ ও নকলের আবেদন:
রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা ২০১৪ এর ১০৮ অনুচ্ছেদে তল্লাশ ও নকলের আবেদনের নিয়মাবলী লিপিবদ্ধ আছে।
এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে সকল ক্ষেত্রে তল্লাশ ও পরিদর্শনের জন্য কোন ফিস পরিশোধযোগ্য নহে, সে সকল ক্ষেত্র ব্যতিত, সকল ক্ষেত্রে নকলের জন্য আবেদন দাখিল করিবার পূর্বে (৩৬ নং ফরম অনুযায়ী) তল্লাশ ও পরিদর্শনের জন্য আবেদন করিতে হইবে। এরপর ৩৭ নং ফরমে নকলের জন্য আবেদন করিতে হইবে।

হিন্দু সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিয়ম

হিন্দু সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিয়ম

হিন্দু আইনে দুই ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু আছে:
(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি (খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।
বাংলাদেশে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ আইন অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী।

নিম্নে মোট ৫৩ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ
১। পুত্র
২। পুত্রের পুত্র
৩। পুত্রের পুত্রের পুত্র
৪। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।
৫। কন্যা
৬। কন্যার পুত্র
৭। পিতা
৮। মাতা
৯। ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই।
১০। ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র
১১। ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র।
১২। বোনের পুত্র
১৩। পিতার পিতা
১৪। পিতার মাতা
১৫। পিতার ভাই
১৬। পিতার ভাইয়ের পুত্র
১৭। পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
১৮। পিতার বোনের পুত্র
১৯। পিতার পিতার পিতা
২০। পিতার পিতার মাতা
২১। পিতার পিতার ভাই
২২। পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
২৩।  পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
২৪। পিতার পিসির পুত্র
২৫। পুত্রের কন্যার পুত্র
২৬। পুত্রের পুত্রের কন্যার পুত্র
২৭। ভাইয়ের কন্যার পুত্র
২৮। ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
২৯। খুড়ার কন্যার পুত্র
৩০। খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র
৩১। পিতার খুড়ার কন্যার পুত্র
৩২। পিতার খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র
৩৩। মাতার পিতা (নানা)
৩৪। মাতার ভাই (মামা)
৩৫। মাতার ভাইয়ের পুত্র (মামার পুত্র)
৩৬। মাতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র (মামার পুত্রের পুত্র)
৩৭। মাতার বোনের পুত্র (মাসির পুত্র)
৩৮। মাতার পিতার পিতা
৩৯। মাতার পিতার ভাই
৪০। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
৪১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
৪২।  মাতার পিতার বোনের পুত্রের পুত্র
৪৩। মাতার পিতার পিতার পিতা
৪৪। মাতার পিতার পিতার ভাই।
৪৫। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
৪৬। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
৪৭। মাতার পিতার পিতার বোনের পুত্র
৪৮। মাতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
৪৯। মাতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
৫০। মাতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
৫১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
৫২।  মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
৫৩।  মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

মোট ৫৩টি শ্রেণির মধ্যে মহিলা শ্রেণী ৫ টি।
১। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী (তালিকায় যার স্থান ৪র্থ)।
২। কন্যা (তালিকায় যার স্থান ৫ম)।
৩। মাতা (তালিকায় যার স্থান ৮ম)।
৪। পিতার মাতা ( তালিকায় যার স্থান ১৪ তম)।
৫। পিতার পিতার মাতা ( তালিকায় যার স্থান ২০ তম)।
এই ৫ শ্রেণীর মহিলা কোন সম্পত্তি পেলেও সীমিত কিছু শর্ত (যেমন- মৃতের শ্রাদ্ধ) ছাড়া তা হস্তান্তর করতে পারে না। তারা মুলত জীবনস্বত্ব ভোগ করতে পারে। তাদের মৃতুর পর সম্পত্তি পুর্ব মালিকের কাছে ফিরে যাবে, যা নিকটস্থ উত্তরাধিকারী পাবে। কোন পুরুষ উত্তরাধিকারী সম্পত্তি না পাওয়া পর্যন্ত এভাবে সম্পত্তি বারবার মৃত মুল মালিকের কাছে ফিরে যাবে।
১ থেকে ৪ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত কেউ জীবিত না থাকলে (৫ নম্বর ক্রমিকের) কন্যা সম্পত্তি পাবে। কন্যাদের মধ্যে কুমারী কন্যার দাবী অগ্রগণ্য, এর পর পুত্রবতী বা পুত্র সম্ভবা কন্যাদের দাবী। কন্যা উত্তরাধিকার সুত্রে সম্পত্তি পেলে তার মৃত্যুতে তার পুত্র সন্তান সম্পত্তি পাবে। তবে কন্যার পুত্র না থাকলে পুত্রের পুত্র কোন সম্পত্তি পাবে না।
এক বা একাধিক পুত্র থাকলে তারাই সমুদয় সম্পত্তি পাবে। নিকটবর্তী পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে পরবর্তীরা সম্পত্তি পাবে না, যেমন পুত্র থাকলে পুত্রের-পুত্র সম্পত্তি পাবে না।
মৃত ব্যক্তির পুত্র ও স্ত্রী থাকলে, স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পাবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে স্ত্রীর অংশ স্ত্রীদের মধ্যে তুলাংশে বন্টন হবে। স্ত্রী যেরূপ অংশ পাবে, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী বা পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রীও অনুরূপ অংশ পাবে।
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের সময় অংশীদারদের মধ্যে যদি কোন অংশীদার মারা যায়, তবে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধিকারগণ ওয়ারিশ হবে।
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করেন। তার মৃত্যর পর উক্ত সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়।
৬। একমাত্র হিন্দু ধর্মে দত্তক পুত্র গ্রহনের বিধান আছে। তাই দত্তক পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের (১/৩) তিন ভাগের এক ভাগ পাবে।
৭। হিন্দু আইনে সন্ন্যাসী উত্তরাধিকার হয় না। সন্ন্যাসীকে সংসার ত্যাগী হিসাবে মৃত ধরা হয়।
৮। অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন এবং হাবাগোবা পুরুষ ও মহিলাগণ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। এমনকি দূরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যধীগ্রস্ত ব্যক্তিগণও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। আইনের দৃষ্টিতে তাদেরকে মৃত হিসেবে বিবেচনা করে তাদের বৈধ সন্তান, পিতামহ ও পিতামহীর উপর উত্তরাধিকারিত্ব বর্তায়।
৯। স্বামী অসতী স্ত্রী রেখে মারা গেলে, সেই অসতী স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি পাবে না। তবে বিধবা স্ত্রী আইন সঙ্গতভাবে সম্পত্তি পাওয়ার পর অসতী হলে প্রাপ্ত সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হবে না। অসতীত্বের কারনে মাতাও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয়। তবে অসতীত্বের কারনে কোন নারী, স্ত্রী-লোকের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয় না।
১০। কোন হিন্দু লোক ধর্মান্তরিত হলে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয়।
১১। হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে।

উইল দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য

উইল দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য
রেজিস্ট্রেশন ফিঃ- ২০০ টাকা (সি-ফিস)
স্ট্যাম্প শুল্কঃ প্রযোজ্য নয়।
এছাড়া ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা, ই-ফি ১০০ টাকা, এন-ফি-দলিলের প্রতিটি ৩০০ শব্দের দুই পৃষ্টার অতিরিক্ত প্রতি পৃষ্টার জন্য ৪০ টাকা হারে লাগবে।
বিঃদ্রঃ এক-তৃতীয়াংশের অধিক সম্পত্তি উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা যায় না।

লিজ বা ইজারা দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য

লিজ বা ইজারা দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য
রেজিস্ট্রেশন ফিঃ হস্তান্তরিত সম্পত্তির দলিলে লিখিত মোট মূল্যের ২% টাকা।
(দলিলের মূল্য ২৪,০০০ টাকা বা তার কম হলে নগদ অর্থে এবং ২৪,০০০ টাকার বেশি হলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিঃ এ, কোড নং ১.২১৬১.০০০০.১৮২৬ তে জমা করতে হবে।)
স্টাম্প শুল্কঃ যে ক্ষেত্রে ইজারা দ্বারা ভাড়া নির্ধারিত হয় কিন্তু কোন প্রিমিয়াম পরিশোধ বা প্রদত্ত হয়নি, সেইক্ষেত্রে-
(১) উক্ত ইজারা এক বছরের কম মেয়াদের হলেঃ- অনুরূপ ইজারার অধীন প্রদেয় বা পরিশোধযোগ্য সমুদয় অর্থের ২% টাকা।
(২) উক্ত ইজারা এক বছরের অধিক কিন্তু পাঁচ বছরের অধিক মেয়াদের না হলেঃ- বাৎসরিক সংরক্ষিত গড় ভাড়া বা গড় মূল্যের সমপরিমাণ অর্থের ২% টাকা।
(৩) উক্ত ইজারা পাঁচ বছরের অধিক কিন্তু দশ বছরের অধিক মেয়াদের না হলেঃ- বাৎসরিক সংরক্ষিত গড় ভাড়া বা গড় মূল্যের সমপরিমাণ অর্থের ৩% টাকা।
(৪) উক্ত ইজারা দশ বছরের অধিক কিন্তু বিশ বছরের অধিক মেয়াদের না হলেঃ- বাৎসরিক সংরক্ষিত গড় ভাড়া বা গড় মূল্যের দ্বিগুণ অর্থের ৩% টাকা।
(৫) উক্ত ইজারা বিশ বছরের অধিক কিন্তু ত্রিশ বছরের অধিক মেয়াদের না হলেঃ- বাৎসরিক সংরক্ষিত গড় ভাড়া বা গড় মূল্যের তিনগুণ অর্থের ৩% টাকা।
(৬) উক্ত ইজারা ত্রিশ বছরের অধিক কিন্তু একশত বছরের অধিক মেয়াদের না হলেঃ- বাৎসরিক সংরক্ষিত গড় ভাড়া বা গড় মূল্যের চারগুণ অর্থের ৩% টাকা।
(৭) উক্ত ইজারা একশত বছরের অধিক অথবা চিরস্থায়ী মেয়াদের হলেঃ- শুধুমাত্র কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত হলে, প্রথম পঞ্চাশ বৎসরের এক দশমাংশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রথম পঞ্চাশ বছরের এক ষষ্ঠাংশ অর্থের ৩% টাকা।
(৮) উক্ত ইজারা কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের না হলেঃ- ইজারা অব্যাহত থাকলে প্রথম দশ বছরের বাৎসরিক সংরক্ষিত গড় ভাড়া বা মূল্যের তিনগুণ অর্থের ৩% টাকা।
(বি) যেক্ষেত্র উক্ত ইজারা জরিমানা বা প্রিমিয়াম অথবা অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে প্রদত্ত হয় এবং উহার বিপরীতে কোন ভাড়া সংরক্ষিত না থাকলে- ইজারায় ঘোষিত জরিমানা বা প্রিমিয়াম অথবা অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের সমপরিমাণ অর্থের ৩% টাকা।
(সি) যেক্ষেত্রে উক্ত ইজারা সংরক্ষিত ভাড়ার অতিরিক্ত জরিমানা বা প্রিমিয়াম অথবা অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে প্রদত্ত হয়ঃ- ইজারায় ঘোষিত জরিমানা বা প্রিমিয়াম অথবা অগ্রিম প্রদত্ত অর্থ এবং তৎসহ জরিমানা বা প্রিমিয়াম অথবা অগ্রিম ব্যতিত প্রদেয় ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থের ৩% টাকা।
(১৮৯৯ সালের স্টাম্প আইনের ১ নম্বর তফশিলের ৩৫ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে।)
দলিলে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্টাম্প ব্যবহার করা যাবে। স্টাম্প খাতের বাকি অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিঃ এ কোড নং ১.১১০১.০০২০.১৩১১ তে জমা করতে হবে।
স্হানিয় সরকার করঃ সিটি কর্পোরেশন এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর অধীন সম্পত্তি না হলে, হস্তান্তরিত সম্পত্তির দলিলে লিখিত মোট মূল্যের ৩% টাকা, সিটি কর্পোরেশন ভুক্ত সম্পত্তির হলে হস্তান্তরিত সম্পত্তির দলিলে লিখিত মোট মূল্যের ২% টাকা এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর অধীন সম্পত্তি হলে হস্তান্তরিত সম্পত্তির দলিলে লিখিত মোট মূল্যের হলে ২% টাকা।
(স্থানীয় সরকার করের পরিমাণ ১০০ টাকা বা তার কম হলে নগদ অর্থে এবং ১০০ টাকার বেশি হলে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব নম্বরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করতে হবে।)
উৎস কর (53HH): রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অথবা কোন ব্যক্তি, অংশীদারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিসংঘ, অবিভক্ত হিন্দু পরিবার,কোম্পানি বা অন্য কোন আইনানুগ সত্তা কর্তৃক স্থাবর সম্পত্তি লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে লিজের মেয়াদ ১০ (দশ) বছর বা তার বেশি হলে- লিজ মূল্যের ৪% টাকা।
53HH. Any registering officer responsible for registering under theRegistration Act, 1908 (XVI of 1908) any document in relation to any lease of immovable property for not less than ten years from any authority formed or established under any law or from any other person being an individual, a firm, an association of persons, a Hindu undivided family, a company or any artificial juridical person] shall not register such document unless tax is paid at a rate of four per cent by the lessor on the lease amount of such property.
Explanation.-For the purpose of this section, “any authority” shall mean Rajdhani Unnayan Kartripakkha (RAJUK), Chittagong Development Authority (CDA), Rajshahi Development Authority (RDA), Khulna Development Authority (KDA) or National Housing Authority.]
মূল্য সংযোজন কর ( VAT)ঃ সরকার, গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, বিসিক, রাজউক, সিডিএ, আরডিএ, ভূমি উন্নয়ন সংস্থা, ভবন নির্মাণ সংস্থা, সমবায় সমিতি বা কোন ব্যক্তি কর্তৃক উন্নয়নকৃত ভূমি বা প্লট এর লিজ দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত হারে VAT পরিশোধ করতে হবেঃ
ফ্লাট এর ক্ষেত্রে-
১। ফ্লাট এর আয়তন ১১০০ বর্গফুট পর্যন্ত হলে দলিল মূল্যের ১.৫% টাকা।
২। ফ্লাট এর আয়তন ১১০০ বর্গফুট থেকে ১৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত হলে দলিল মূল্যের ২.৫% টাকা।
৩। ফ্লাট এর আয়তন ১৬০০ বর্গফুট এর বেশি হলে দলিল মূল্যের ৪.৫% টাকা।
প্লট এর ক্ষেত্রে- দলিল মূল্যের ৩% টাকা।
এছাড়া ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা, ই-ফি ১০০ টাকা, এন-ফি-দলিলের প্রতিটি ৩০০ শব্দের দুই পৃষ্টার অতিরিক্ত প্রতি পৃষ্টার জন্য ৪০ টাকা হারে লাগবে।
এন-ফিস ও ই-ফিস পে-অর্ডারের মাধ্যমে কোড নং ১.২১৬১.০০০০.১৮২৬ তে জমা করতে হবে।
বিঃদ্রঃ
১। ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্তকৃত লিজ দলিলে ফিস মওকুফ, তবে স্ট্যাম্প শুল্ক ও স্থানীয় সরকার কর প্রযোজ্য।
২। সরকার বা স্থানীয় সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত লিজ দলিলে হলফনামা প্রযোজ্য নয়।
৩। লিজমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তি পুনঃহস্তান্তরের ক্ষেত্রে উৎস কর (53H) প্রযোজ্য হবে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল দাখিলের পূর্বে যা ভালভাবে দেখতে হবে

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল দাখিলের পূর্বে যা ভালভাবে দেখতে হবে

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল প্রস্তুত হয়ে গেলে সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট উপস্থাপনের পুর্বে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ভাল ভাবে দেখতে হবেঃ
১। দলিলের প্রতি পৃষ্টায় দাতার/পক্ষগণের সম্পাদন আছে কি-না।
২। খতিয়ান অনুযায়ী জমির দাগ নম্বর অংকে ও কথায় লেখা আছে কি- না।
৩। দাগ মোতাবেক জমির হাত নকশা ও পরিমান সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি-না।
৪। সম্পত্তির প্রকৃত শ্রেনী অনুযায়ী সঠিক মূল্য লেখা হয়েছে কি-না।
৫। দাতা/বিক্রেতার এবং ক্রেতা/গ্রহিতার বিক্রিত/অর্জিত জমির হারাহারি মালিকানার পরিমান সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি-না।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন- (১) এই আইন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
বিঃদ্রঃ এস, আর, ও নং ১৯৭-আইন/২০১৩, তারিখ: ২৬ জুন, ২০১৩ ইং দ্বারা ১৭ আষাঢ়, ১৪২০ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ০১ জুলাই, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
২। সংজ্ঞা- বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” অর্থ এমন কোন দলিল যাহার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি তাহার পক্ষে উক্ত দলিলে বর্ণিত কার্য-সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ক্ষমতা অর্পণ করেন;
(২) “পণ মূল্য” অর্থ কোন ভূমি উন্নয়নের নিমিত্ত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার গ্রহীতা যে অংশ বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন উহার বাজার মূল্য ও পাওয়ার দাতা কর্তৃক গৃহীত কোন অর্থ, যদি থাকে, যাহা দলিলের মূল্য হিসাবে গণ্য হয়;
(৩) “ব্যক্তি” অর্থে যে কোন ব্যক্তি, অংশীদারী কারবার, সমিতি, কোম্পানী, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সমবায় সমিতিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৪) “অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” অর্থ স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের বা ঋণ গ্রহণের বিপরীতে স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক প্রদানের জন্য প্রদত্ত কোন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অথবা স্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে পণ মূল্য গ্রহণের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়নসহ উক্ত দলিল সম্পাদনের ক্ষমতা প্রদান সম্পর্কিত কোন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি;
(৫) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি;
(৬) “ভূমি উন্নয়ন” অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয়ের নিমিত্ত আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্লট প্রস্তুত, অথবা এপার্টমেন্ট বা মিশ্র ফ্লোর স্পেস বা ফ্ল্যাট নির্মাণের মাধ্যমে কোন প্লট বা ভূমির উন্নয়ন;
(৭) “সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” অর্থ দফা (৪) এ উল্লিখিত বিষয়ে সম্পাদিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যতিত অন্য কোন বিষয়ে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি;
(৮) “রেজিস্ট্রেশন আইন” অর্থ Registration Act, 1908 (Act XVI of 1908) ।
৩। অন্যান্য আইনের প্রয়োগ- এই আইনে বর্ণিত হয় নাই কিন্তু অন্য কোন আইনে বর্ণিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত কোন বিধান, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, প্রয়োগযোগ্য হইবে।
৪। অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা অর্পণ, ইত্যাদি- (১) পণ মূল্য গ্রহণের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত অপ্রত্যাহারযোগ্য প্রতিটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকিবে এবং উক্ত মেয়াদে উহা অপ্রত্যাহারযোগ্য শর্তে বহাল থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মেয়াদ অতিক্রান্ত হইবার পরও পাওয়ার গ্রহীতার অংশের বিক্রয়, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন বা ঋণ গ্রহণের বিপরীতে বন্ধকী দলিল সম্পাদনের ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হইবে না এবং উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বহাল আছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান সত্ত্বেও, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির উদ্দেশ্য বা শর্ত ব্যাহত বা কোন পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হইলে রেজিস্টার্ড ডাকের মাধ্যমে পাওয়ার দাতা বা গ্রহীতা ৩০ (ত্রিশ) দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক উক্ত দলিলে প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান পারিবেন এবং উক্ত নোটিশের একটি কপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নথিভুক্তকরণের নিমিত্ত প্রেরণ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৩ এর বিধান মোতাবেক কোন পদক্ষেপ গৃহীত হইলে উহা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত দলিলে প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটানো যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ জারীর সঙ্গে সঙ্গে ধারা ১৩ এর বিধান মোতাবেক চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যকরতা স্থগিত হইয়া থাকিবে।
(৫) পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে পাওয়ারদাতা ও পাওয়ারগ্রহীতা সম্মতির ভিত্তিতে রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে উহার মেয়াদ বর্ধিত করিতে পারিবেন।
(৬) অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মেয়াদ অবসান হইবার পূর্বে পাওয়ারদাতা বা পাওয়ারগ্রহীতার মৃত্যু হইলে বা তাহারা আইনগতভাবে দলিল সম্পাদনে অক্ষম হইলে উক্ত মৃত বা অক্ষম ব্যক্তির বৈধ ওয়ারিশ বা স্থলবর্তীর উপর দলিল হইতে উদ্ভূত দায় বা অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্পিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৯ এর বিধান সাপেক্ষে, একক গ্রহীতার ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
৫। নোটিশ জারী, ইত্যাদি-  (১) এই আইনের অধীন কোন নোটিশ কোন পক্ষ বা ব্যক্তির উপর জারী করা প্রয়োজন হইলে এবং জারীর বিষয়ে পক্ষগণ ভিন্নভাবে সম্মত না হইলে, উক্ত নোটিশ সেই পক্ষ বা ব্যক্তির উপর জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যদি-
(ক) উহা তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে বা তাহার ব্যবসায়িক ঠিকানা বা তাহার স্বাভাবিক বাসস্থান বা অন্য কোনভাবে তাহার চিঠির ঠিকানায় সরবরাহ করা হইয়া থাকে; এবং
(খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত কোন জায়গায় স্বাভাবিক অনুসন্ধানের পরও তাহাকে না পাওয়া যায় তাহা হইলে সর্বশেষ জ্ঞাত ব্যবসায়িক, বাসস্থান বা চিঠির ঠিকানায় রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বা অন্য কোন পদ্ধতিতে প্রেরিত হয় এবং উহাতে উক্তরূপে প্রেরণের প্রমাণ লিপিবদ্ধ থাকে।
(২) নোটিশ যে তারিখে, ক্ষেত্রমত, সরবরাহ বা প্রেরণ করা হইবে সেই তারিখে প্রাপ্ত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
৬। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন- (১) রেজিস্ট্রেশন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সম্পাদিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক এবং রেজিস্ট্রেশন আইনের section 52A এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সম্পাদিতব্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে অবশ্যই পাওয়ারদাতার উদ্দেশ্য এবং পাওয়ারগ্রহীতার দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কার্যাবলীর সুস্পষ্ট বিবরণ থাকিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন সম্পাদিতব্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে পাওয়ারদাতা ও পাওয়ারগ্রহীতার ১ (এক) কপি করিয়া ছবি স্থায়ীভাবে সংযুক্ত এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের বাহিরে বসবাসরত পাওয়ার দাতার ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, রেজিস্ট্রেশন আইনের section 33 এর sub-section (1)(c) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।
(৫) পাওয়ারদাতা বাংলাদেশের বাহিরে বসবাস করিলে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল সম্পাদনের সময় পাওয়ারদাতা উপ-ধারা (৩) এর অধীন সংযুক্তকৃত পাওয়ার গ্রহীতার ছবি, স্বাক্ষরপূর্বক সনাক্ত করিবেন।
(৬) বিদেশে সম্পাদিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল বাংলাদেশে প্রথম প্রবেশের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রমাণীকরণ (Authentication) অন্তেঃ উহা Stamp Act, 1899 (Act II of 1899) এর section 18 অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কালেক্টর কর্তৃক প্রয়োজনীয়রূপে স্ট্যাম্পযুক্ত করিতে হইবে।
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি স্ট্যাম্পযুক্ত হওয়ার পর উহার একটি কপি কালেক্টর কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং উক্তরূপে কোন কপি প্রেরণ করা হইলে উহা, রেজিস্ট্রেশন আইনের section 89 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার ১ নং বহিতে নথিভুক্ত করিয়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
৭। পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক সম্পাদিত কর্মের আইনগত ফলাফল- পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক সম্পাদিত বা কৃত বা উহার ফলপ্রসূত কোন বাধ্যবাধকতা এমনভাবে বলবৎ হইবে যেন স্বয়ং পাওয়ারদাতা উক্ত কার্য সম্পাদন করিয়াছেন।
৮। যৌথদাতার একজনের মৃত্যুর পরিণাম-অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ারদাতা একাধিক হইলে উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হইবার পূর্বে কোন পাওয়ারদাতার মৃত্যুতে তাহার ওয়ারিশগণ এমনভাবে মৃত পাওয়ারদাতার স্থলাভিষিক্ত হইবেন এবং কার্য-সম্পাদন করিবেন যেন পাওয়ারদাতার মৃত্যু হয় নাই।
৯। যৌথগ্রহীতার একজনের মৃত্যুর পরিণাম-অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ারগ্রহীতা একাধিক হইলে, উহাদের কোন একজনের মৃত্যুতে, উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল হইবে না বরং উহা অবশিষ্ট জীবিত পাওয়ারগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে অক্ষুণ্ন ও বলবৎ থাকিবে।
১০। মৃত্যু, ইত্যাদি সম্পর্কে অবগতি ব্যতিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অধীন অর্থ প্রদান-পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দাতার মৃত্যু, মস্তিস্ক বিকৃতি, দেউলিয়াত্ব, অসচ্ছলতা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান সম্পর্কে অবগত না থাকিয়া কেহ সরল বিশ্বাসে কোন অর্থ প্রদান বা কার্য করিলে, উক্ত ব্যক্তি পাওয়ারদাতার নিকট হইতে যে প্রতিকার লাভ করিত পাওয়ারগ্রহীতার নিকট হইতেও অনুরূপ প্রতিকার লাভ করিবে।
 ১১। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান- (১) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান ঘটিবে, যথাঃ-
(ক) কোন নির্দিষ্ট কার্য-সম্পাদনের উদ্দেশ্যে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদিত হইলে উক্ত কার্য সম্পাদিত হইবার পর বা কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য উহা সম্পাদিত হইলে উক্ত বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জিত বা হাসিল হইবার পর;(খ) ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদিত হইলে, উক্ত মেয়াদ অতিক্রান্ত হইবার পর;(গ) যে বিষয়বস্তুর উপর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করা হয় সেই বিষয়বস্তুর বিনাশ বা অস্তিত্বের বিলোপ ঘটিলে;(ঘ) অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যতিত অন্যান্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতা দেউলিয়া বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে বা মৃত্যুবরণ করিলে বা পাওয়ারদাতার আইনী স্বত্বা (legal entity) বিলুপ্ত হইলে ।(২) সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দাতা উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে পাওয়ারগ্রহীতাকে রেজিস্টার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ (ত্রিশ) দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক, প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাইতে পারিবেন:তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপে অবসান ঘটাইবার নোটিশ জারীর পূর্ব পর্যন্ত উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বলে কৃত সকল কার্যাদি বৈধ বলিয়া গণ্য হইবে।(৩) পাওয়ারগ্রহীতা উপ-ধারা (২) এর অনুরূপভাবে পাওয়ারদাতাকে রেজিস্টার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ (ত্রিশ) দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক পাওয়ার অব অ্যাটর্নির দায়িত্ব পরিত্যাগ করিতে পারিবেন।
১২। রেজিস্ট্রেশন ফি, ইত্যাদি- এই আইনের অধীন সম্পাদিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ফি রেজিস্ট্রেশন আইনের section 78 অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
১৩। বিরোধ নিষ্পত্তি- (১) রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীন রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হইতে উদ্ভূত যে কোন বিরোধ পক্ষগণ প্রথমে নিজেদের মধ্যে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করিবেন।(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী আপোষ মিমাংসার পদক্ষেপ গ্রহণের পর যদি কোন পক্ষের অসহযোগিতার কারণে উহা ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে অপরপক্ষ বিবাদমান বিষয়টি একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য অপরপক্ষকে নোটিশ প্রদান করিবেন।(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশ প্রাপক উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নোটিশ প্রেরকের সহিত যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিবেন।(৪) পক্ষগণ কর্তৃক নিয়োগকৃত মধ্যস্থতাকারীর সিদ্ধান্ত পক্ষগণসহ তাহাদের মাধ্যমে বা অধীনে দাবীদার যে কোন ব্যক্তির উপর বাধ্যকর হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন পক্ষের আপত্তি উত্থাপনের অধিকার থাকিবে না।(৫) উপ-ধারা (৩) মোতাবেক পক্ষগণ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হইলে যে কোন পক্ষ বিবাদমান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কোন উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।
১৪। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা- সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
 ১৫। আইনের ইংরেজি অনূদিত পাঠ- (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
১৬। রহিতকরণ ও হেফাজত- (১) Power of Attorney Act, 1882 (Act VII of 1882) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত আইনের অধীনকৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীনকৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা

ধারা- ২১। সম্পত্তির বর্ণনা এবং ম্যাপ ও প্লান-
(১) স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত সর্ব প্রকার দলিলে সম্পত্তির পরিচয় এইরূপ ভাবে দিতে হইবে, যাহাতে সম্পত্তির সঠিক পরিচয় কি, তাহা জানিতে পারা যায় নতুবা রেজিস্ট্রারিং অফিসার উহা রেজিস্ট্রিককরনের জন্য গ্রহন করিবেন না।
(২) শহরে অবস্থিত ঘর-বাড়ির ক্ষেত্রে, উহা রাস্তার কোন দিকে অর্থাৎ উত্তরে কি অন্য কোন দিকে অবস্থিত তাহা এবং উক্ত রাস্তার নাম, বাড়ির অতীত ও বর্তমান দখলকারের নাম এবং রাস্তায় বাড়ির নম্বর থাকিলে তাহা দলিলে লিখিতে হইবে।
(৩) অন্যান্য ঘড়-বাড়ী এবং জমির ক্ষেত্রে উহার নাম, যদি থাকে, কোন এলাকায় অবস্থিত এবং উহাতে অবস্থিত অতিরিক্ত কোন জিনিস, রাস্তা এবং অন্য কোন সম্পত্তি যাহাতে উহা সন্নিহিত, উহার বর্তমান দখলকার এবং সম্ভব হইলে কোন সরকারী ম্যাপ বা নকশা অনুসারে বর্ণনা করিতে হইবে।
(৪) দলিলে কোন ম্যাপ বা নকশা থাকিলে তাহার অবিকল নকলসহ দাখিল করিতে হইবে। সম্পত্তি যতগুলি জেলায় অবস্থিত হইবে, ততগুলি ম্যাপ বা নকশার নকল দাখিল করিতে হইবে, নতুবা দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য গ্রহন করা হইবে না।
ধারা- ২২ক । হস্তান্তর দলিল-(১) এই আইনের অধীন বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনযোগ্য প্রতিটি হস্তান্তর দলিলে পক্ষগণের অভিপ্রায় জ্ঞাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি, হস্তান্তরাধীন সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ এবং লেনদেনের প্রকৃতি অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২) প্রত্যেক দলিলে সম্পাদনকারী এবং গ্রহীতা উভয়ের ছবি আঠা দ্বারা সংযুক্ত করিতে হইবে এবং পক্ষগণ দলিলে সংযুক্ত ছবির উপর আড়াআড়িভাবে দস্তখত ও বাম বৃদ্ধাঙ্গুলীর টিপছাপ প্রদান করিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো পক্ষ নাম সাক্ষর করিতে অক্ষম হন, তাহা হইলে তাহাকে নাম সাক্ষর করিতে হইবেনা।
ধারা- ২৩। দলিল দাখিলকরণের সময়ঃ ধারা ২৪, ২৫ এবং ২৬ এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, উইল ব্যতিত অন্য কোন দলিল যদি উহা সম্পাদনের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট রেজিস্ট্রেশনের উদ্দেশ্যে দাখিল করা না হয়, তাহা হইলে উহা রেজিস্ট্রেশনের জন্য গৃহীত হইবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রি বা আদেশের নকল, ডিক্রি বা আদেশ দানের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে, বা যেক্ষেত্রে উহা আপিলযোগ্য, সেইক্ষেত্রে আপিল চুড়ান্ত হওয়ার তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে দাখিল করা যাইবে।
ধারা- ৪৭। নিবন্ধিত দলিল যে সময় হইতে কার্যকর হয়ঃ-
কোন নিবন্ধিত দলিল, যদি উহার নিবন্ধন আবশ্যক না হইত, তাহা হইলে উহা, যে সময় হইতে কার্যকর হইত সেই সময় হইতেই কার্যকর হইবে, নিবন্ধনের সময় হইতে নহে।
ধারা- ৪৯। নিবন্ধনযোগ্য দলিল নিবন্ধন না হওয়ার ফলঃ-
এই আইনের অধীন বা দলিল নিবন্ধনের বিধান-সংবলিত বা সম্পর্কিত পূর্ববর্তী কোন আইনের অধীন কোন দলিলের নিবন্ধন প্রয়োজন হইলে, যদি উহা নিবন্ধিত না হয়, তাহা হইলে-
(ক) উক্ত দলিল স্থাবর সম্পত্তিতে কায়েমি বা সম্ভাব্য কোন অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ বর্তমানে বা ভবিষ্যতে সৃজন, ঘোষণা, অর্পণ বা সীমিত করিতে বা অবসান ঘটাইতে কার্যকর হইবেনা; বা
(খ) উক্ত দলিল দত্তকগ্রহনের কোন ক্ষমতা অর্পণ করিবেনা ।
ধারা- ৫২এঃ [কোন স্হাবর সম্পত্তির বিক্রয় দলিল দাখিল করা হলে, যে পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত বিবরনাদি দলিলে অন্তর্ভূত এবং দলিলের সহিত সংযুক্ত না করা হয়, সেই পর্যন্ত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দলিলটি নিবন্ধন করবেন না, যথা-
(ক) বিক্রেতা যদি উত্তরাধিকারপ্রাপ্তি  ব্যতিত অন্যভাবে সম্পত্তির মালিক হইয়া থাকেন, তাহলে “রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন,১৯৫০” এর অধীন তার নামে প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ খতিয়ান;
(খ) বিক্রেতা যদি উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর অধিন তার নামে অথবা তার পূর্বসূরির নামে প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ খতিয়ান;
(গ) সম্পত্তির প্রকৃতি ;
(ঘ) সম্পত্তির মূল্য;
(ঙ) সীমানা ও চৌহদ্দিসহ সম্পত্তির একটি নকশা;
(চ) সম্পত্তির মালিকানার গত ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা; এবং
(ছ) এই দলিল সম্পাদনের পূর্বে সম্পাদনকারী সম্পত্তিটি কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করেন নাই এবং উহাতে তাহার বৈধ স্বত্ব বহাল আছে মর্মে দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিয়া একটি হলফনামা।]
ধারা- ৮০। এই আইন অনুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রিকরনের সমস্ত ফিস দলিলটি উপস্থাপনের সময় দিতে হবে।
ধারা- ৮২। মিথ্যা বিবৃতি প্রদান, মিথ্যা নকল বা অনুবাদ সরবরাহ, মিথ্যা পরিচয় দান ও অনুরূপ কার্যে সহযোগিতার শাস্তিঃ- কোন ব্যাক্তি-
(ক) এই আইনের অধীন যে কোন কার্যধারায় বা তদন্তে, শপথ করিয়া বা না করিয়া, তাহা রেকর্ডকৃত হউক বা না হউক, এই আইনবলে কার্যনির্বাহের জন্য কর্মরত কোন কর্মকর্তার সম্মুখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোন মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেন; বা
(খ) উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধারা ১৯ বা ধারা ২১ এর অধীন কোন কার্যধারায় কোন নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার নিকট দলিলের মিথ্যা নকল, বা অনুবাদ অথবা কোন ম্যাপ বা প্ল্যানের মিথ্যা কপি সরবরাহ করেন; বা
(গ) প্রতারণামূলকভাবে অন্য কাহারও পরিচয় ধারণ করেন, এবং এইরূপ ভান-করা পরিচয়ে এই আইনের অধীন কোন কার্যধারায় বা তদন্তে কোন দলিল দাখিল করেন, বা কোন স্বীকারোক্তি প্রদান করেন, বা বিবৃতি প্রদান করেন, বা কোন সমন জারি বা কমিশন প্রেরণের কারণ ঘটান বা অন্য কোন কার্য করেন; বা
(ঘ) এই আইনের অধীন দন্ডনীয় কোন কার্য করিতে প্ররোচনা প্রদান করেন;
তাহা হইলে তিনি কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন যাহার মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে, বা অর্থদন্ডে, বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
ধারা- ৮৪। রেজিস্ট্রারিং অফিসারকে সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করিতে হইবেঃ
(১) এই আইনানুযায়ী নিযুক্ত কোন অফিসার দণ্ডবিধির আইনানুসারে পাবলিক সারভেন্ট বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) এইরূপ রেজিস্ট্রারিং অফিসার কাহারও নিকট কোন সংবাদ চাহিলে তিনি আইনতঃ দিতে বাধ্য।
(৩) দণ্ডবিধির ২২৮ ধারায় “জুডিশিয়াল প্রসিডিং” অর্থে এই আইনানুযায়ী যে কোন কার্যপ্রণালীও বুঝাইবে।
ধারা- ৮৫। দাবিবিহীন দলিলপত্র বিনষ্টকরণঃ- উইল ব্যতীত, অন্য কোন দলিল ২ (দুই) বৎসরের অধিক সময়ের জন্য কোন রেজিস্ট্রি অফিসে দাবিবিহীন অবস্থায় থাকিলে তাহা বিনষ্ট করা যাইবে।

দলিল শব্দের জানা অজানা সব তথ্য

নানা কারণেই আমাদের বিভিন্ন সময়ে দলিল ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়। দলিলপত্র ঘাঁটার অভ্যাস নেই এমন লোকদের জন্য দলিলের ভাষা উদ্ধার করা সহজসাধ্য কাজ নয় কেননা, বাংলা দলিল কিংবা চুক্তিপত্রে অনেক শব্দ আছে, যেগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয় আবার এমন সব শব্দও আছে, যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তায় খুব কম হয়। কিংবা আমাদের সঙ্গে তাদের পরিচিতি কম। দলিলে ব্যবহৃত এ রকম কিছু শব্দের অর্থ ও ব্যুৎপত্তি নিচে দেওয়া হল।
শব্দের অর্থ সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা, বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম] ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ। যেমন: যদি লেখা থাকে আবদুল কাদের গং, তাহলে বুঝতে হবে যে আবদুল কাদেরের সঙ্গে আরও অনেকে আছেন।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস, বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান বা বিক্রয়কেন্দ্র বোঝাতেই এটি ব্যবহূত হয়
কিঃ = দফা, বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহৃত হয়
এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত, বহুজনের একত্রে।
যেমন: এজমালি সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন সম্পত্তিকে বোঝায়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ক্বত্বহ শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ, পদ্ধতি।
ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার। পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা।
যেমন: ছানি মামলা। ছোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/আপস। ছোলেনামা মানে আপস-মীমাংসাপত্র। জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে জমা বলতে সঞ্চিত, রাশীকৃত, কিন্তু ভূমি আইন ও দলিল। এটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। যেমন: জমা মানে পুঁজি, মোট, খাজনা, রাজস্ব, বার্ষিক কর [হাওলার বার্ষিক জমা ১০ টাকা]। আবার জমা ওয়াশিল এর অর্থ আয়-ব্যয়ের হিসাব। জমা ওয়াশিল বাকি মানে দেয় খাজনার কত আদায় বা লভ্য খাজনার কত আদায় হয়েছে এবং কত বাকি আছে তার হিসাব; জমা খারিজ অর্থ যৌথ খতিয়ানের জমা থেকে কোনো সহমালিক বা অংশীদারের আবেদনক্রমে তার অংশ আলাদা করে যে নতুন জমা ও খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।
খারিজ = সাধারণ অর্থে বাতিল করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়াকে বোঝায়।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত। অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র, বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী খত।
দং = দরুন, বাবদ, দখল। নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প, অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো হয়। পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয়।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর বোঝানো হয়।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা। মুসাবিদাকারক মানে যিনি দলিল লেখেন।
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত, বৃত্তান্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।

বিভিন্ন প্রকারের ভূমি জরিপ এবং এর ফলে সৃষ্ট খতিয়ান

ভূমি জরিপ এবং খতিয়ান কি?
নির্দিষ্ট কোন এলাকার প্রত্যেক ভূখন্ড সরেজমিনে পরিমাপ করে নির্দিষ্ট স্কেল অনুসারে এর অবস্থান এবং আয়তন সম্বলিত একটি মৌজা নকশা প্রণয়ন করে প্রত্যেক ভূখন্ডের মালিক, দখলদার, জমির পরিমাণ, মালিকানার পরিমান, জমির শ্রেণী ইত্যাদি সম্বলিত ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান প্রনয়ন করাই ভূমি জরিপ। সহজ কথায়, মৌজা নকসা প্রণয়ন এবং স্বত্বলিপি (RoR) তৈরির কাজকে ভূমি জরিপ বলা হয়।বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপ নিম্নরূপঃ
সি,এস, জরিপ (Cadestral survey) বা সি,এস, খতিয়ান):
১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের তত্বাবধানে বাংলায় একটি ভূমি জরিপ হয় যাকে সি,এস, জরিপ বলে। কক্সবাজারের রামু থানা থেকে শুরু হয়ে দিনাজপুরে এ জরিপ শেষ হয়। প্রথম হলেও এ জরিপকে নির্ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  এই জরিপের মাধ্যমে তৈরি নকশাকে সি,এস, নকশা; এবং খতিয়ানকে সি,এস, খতিয়ান বলা হয়। মামলা-মোকদ্দমায় কিংবা বিবাদ মিমাংশার ক্ষেত্রে এ খতিয়ানকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
এস,, জরিপ বা এস,, খতিয়ানঃ
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর মাধ্যমে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ হবার পর জমিদারদের নিকট থেকে অধিগ্রহনকৃত জমির হিসাব নির্নয়, বিলুপ্ত জমিদারীর ক্ষতিপূরন প্রদান, জমির দখলদার রায়তদের জমির মালিক হিসেবে সরকারের অধীনে আনয়ন ও মালিকানার স্বীকৃতি প্রদান প্রভৃতি কারনে ভুমি জরিপের প্রয়োজন দেখা দেয়। সি,এস, রেকর্ড সংশোধনের লক্ষে জমিদারদের নিকট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহের পর ১৯৫৬ থেকে ১৯৬২ এর মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত জরিপের মাধ্যমে যে রেকর্ড প্রস্তুত হয়, তাকে এস,এ, জরিপ বা এস,এ, খতিয়ান বলে। সংক্ষিপ্ত সময়ে জমিদারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ জরিপের মাধ্যমে খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে এতে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়।
আর,এস, জরিপ বা আর,এস, খতিয়ানঃ
এস,এ, জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয় বিধায় তা সংশোধনের লক্ষে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তেতে তৎকালিন সরকার ১৯৫৬ সাল থেকে যে সংশোধনী জরিপ পরিচা্লনা করে, তাই আর,এস, জরিপ বা আর,এস, খতিয়ান নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ এলাকায় এ জরিপ শেষ হয়েছে এবং কিছু এলাকায় এখনো চলছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বি,এস, জরিপ; মহানগর জরিপ মূলতঃ আর,এস, জরিপের অন্তর্ভুক্ত

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল উপস্থাপনের সময়সীমা

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, সম্পাদনের পর রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল উপস্থাপনের সময়সীমা ৩ (তিন) মাস। আদালতের ডিক্রী বা আদেশের নকল তা নিষ্পত্তি হওয়ার তারিখ হতে অথবা তা আপীলযোগ্য হলে, আপীল শেষ হওয়ার তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
[“Subject to the provisions contained in section 24, 25 and 26 no document other than a Will shall be accepted for registration unless presented for that purpose to the proper officer within three months from the date of its execution.
provided that a copy of a decree or order may be presented within three months from the date on which the decree or order was made, or, where it is appealable, within three months from the date on which it becomes final.” Article 23 of the Registration Act, 1908.]
রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ১৭এ (২) ধারা মতে, বায়নাপত্র সম্পাদনের তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ২৭ ধারা মতে, উইল দলিল যে কোন সময়সীমায় রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করা যায়।
রেজিস্ট্রেশন আইনের ২৫ (১) ধারা মতে, কোন দলিল, ডিক্রী বা আদেশের নকল যদি জরুরী প্রয়োজন বা অনিবার্য দুর্ঘটনাবশত নির্ধারিত সময়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করা না হয় এবং বিলম্ব যদি ৪ (চার) মাসের অধিক না হয়, তবে জেলা রেজিস্ট্রার নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফিস এর ১০ (দশ) গুন পর্যন্ত জরিমানা নিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহনের আদেশ দিতে পারেন।
এই আইনের ২৫ (২) ধারা মতে, এ জন্য লিখিত দরখাস্ত সাব-রেজিস্ট্রার এর নিকট দাখিল করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রার ঐ দরখাস্ত জেলা রেজিস্ট্রার এর নিকট প্রেরন করবেন।

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের পদ্ধতি

ভূমি মন্ত্রনালয়ের ‘আইন শাখা-০১’ এর, গত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখের নং- ৩১.০০.০০০০.০৪২.৬৭.০৩১.১১.৮৪১ স্মারকে প্রচারিত ‘পরিপত্রে’ চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য ৩ ধবনের কর্তৃপক্ষের কথা বলা হয়েছে।
১। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ৪৩ ধারা মতে, এবং প্রজাস্বত্ত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ এর বিধি ২৩ এর উপবিধি (৩) অনুযায়ী চুরান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডের করনিক ভুল(Clerical Mistake) সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা (Revenue Officer) নিজেই সংশোধন করতে পারেন। বর্তমানে সার্কেল/উপজেলা পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবেদনের প্রেক্ষিতে বা প্রজাস্বত্ত্ব বিধিমালা ১৯৫৫ এর ২২ বিধির উপবিধি (১) অনুযায়ী খতিয়ানে দৃষ্ট করনিক ভুল সংশোধনের জন্য প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর পুর্ববর্তী জরিপের কাগজপত্র, প্রাথমিক খাজনা বিবরণী, কালেক্টরের দপ্তরে সংরক্ষিত খতিয়ানের কপি এবং ২ নং রেজিস্টার পর্যালোচনা ক্রমে এবং তিনি যে ধরনের অনুসন্ধান প্রয়োজন মনে করেন, তা করে এরূপ করনিক ভুল সংশোধনের নির্দেশ দেবেন। কালেক্টর কর্তৃক বা ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা কর্তৃক সংরক্ষিত খতিয়ান এবং ২ নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ি সংশোধন করার নির্দেশ প্রদান করত সংশোধনলিপির কপি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রদান করবেন। সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্তৃক বিবেচনাযোগ্য করনিক ভুলের মধ্যে নামের ভুল, অংশ বসানোর হিসেবে ভুল, দাগসুচিতে ভুল, ম্যাপের সংঙ্গে রেকর্ডের ভুল,জরিপকালে পিতার মৃত্যুর কারনে সন্তানদের নামে সম্পত্তি রেকর্ড হবার কথা থাকলেও জরিপকারকদের ভুল বা অজ্ঞাত কারনে তা মুল প্রজা বা পিতার নামে রেকর্ড হওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। একইভাবে প্রতারনামূলক লিখনের (Fraudulent Entry) মাধ্যমে সৃষ্ট চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ড সংশোধনের জন্য প্রাপ্ত আবেদন অথবা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব কর্মকর্তা প্রজাস্বত্ত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ এর বিধি ২৩ এর উপবিধি (৪) অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
২। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪৯ ধারার (৪) উপধারা মতে, Board of Land Administration যে কোন সময় যে কোন খতিয়ানে বা চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত সেটেলমেন্ট রেন্ট-রোলে অন্তরভুক্ত যথার্থ ভুল (Bonafide Mistake) সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু Board of Land Administration বর্তমানে বিলুপ্ত বিধায় এ ক্ষমতা সরকারের পাশাপাশি ভূমি আপিল বোর্ডের রয়েছে।
৩। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ জরিপে প্রকাশিত খতিয়ানের বিষয়ে যে কোন আদেশ প্রদানে এখতিয়ারবান। জরিপ পরবর্তী স্বত্বলিপি গেজেটে চুড়ান্ত প্রকাশনার পর কোন সংশোধনীর দাবী থাকলে তা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচার্য।

ভূমি পরিমাপ

ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক এবং সহজ করার জন্য ফরাসি বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারে এই শিকলের নামকরণ করা হয় “গান্টার শিকল”।
আমাদের দেশে গান্টার শিকল দ্বারা ভূমি পরিমাপ পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। শতক ও একরে ভূমি পরিমাপ এবং মাইলস্টোন বসানোর জন্য গান্টার শিকল পদ্ধতি অত্যন্ত উপযোগী। এই শিকলের দৈর্ঘ্য ৬৬ ফুট [২০.৩১ মিটার (প্রায়)]।
ভূমি পরিমাপের সুবিধার্থে গান্টার শিকলকে  ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা কড়ি নামে ডাকা হয়। প্রতিটি লিঙ্ক = ৭.৯২ ইঞ্চি।গান্টার শিকলে ১০ লিঙ্ক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর পর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয়।
কোন ভূমি দৈর্ঘ্যে ১ শিকল বা ১০০ লিঙ্ক এবং প্রস্তে ১০ লিঙ্ক হলে = ১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক।
কোন ভূমি দৈর্ঘ্যে ১০ শিকল × প্রস্থে ১ শিকল = ১০ বর্গ শিকল = ১ একর।
অর্থাৎ ১ লিঙ্ক = ০.৬৬ ফুট।
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট।
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল।
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক।
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর।